
নববর্ষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিশি অবসানপ্রায়, ওই পুরাতন বর্ষ হয় গত! আমি আজি ধূলিতলে এ জীর্ণ জীবন করিলাম নত। বন্ধু হও, শত্রু হও, যেখানে যে কেহ রও, ক্ষমা করো আজিকার মতো পুরাতন বরষের সাথে পুরাতন অপরাধ যত। আজি বাঁধিতেছি বসি সংকল্প নূতন অন্তরে আমার, সংসারে ফিরিয়া গিয়া হয়তো কখন ভুলিব আবার। তখন কঠিন ঘাতে এনো অশ্রু আঁখিপাতে অধমের করিয়ো বিচার। আজি নব-বরষ-প্রভাতে ভিক্ষা চাহি মার্জনা সবার। আজ চলে গেলে কাল কী হবে না-হবে নাহি জানে কেহ, আজিকার প্রীতিসুখ রবে কি না-রবে আজিকার স্নেহ। যতটুকু আলো আছে কাল নিবে যায় পাছে, অন্ধকারে ঢেকে যায় গেহ– আজ এসো নববর্ষদিনে যতটুকু আছে তাই দেহ। বিস্তীর্ণ এ বিশ্বভূমি সীমা তার নাই, কত দেশ আছে! কোথা হতে কয় জনা হেথা এক ঠাঁই কেন মিলিয়াছে? করো সুখী, থাকো সুখে প্রীতিভরে হাসিমুখে পুষ্পগুচ্ছ যেন এক গাছে– তা যদি না পার চিরদিন, একদিন এসো তবু কাছে। সময় ফুরায়ে গেলে কখন আবার কে যাবে কোথায়, অনন্তের মাঝখানে পরস্পরে আর দেখা নাহি যায়। বড়ো সুখ বড়ো ব্যথা চিহ্ন না রাখিবে কোথা, মিলাইবে জলবিম্ব প্রায়– একদিন প্রিয়মুখ যত ভালো করে দেখে লই আয়! আপন সুখের লাগি সংসারের মাঝে তুলি হাহাকার! আত্ম-অভি...